কেউ কেউ বলেন , ' লিখি কারণ এ ছাড়া অন্য কোন কাজ ভালো পারি না '।

নাসির আহমেদ

 

কথা ও  ভাবনা  :  ৮৭ 

নাসির আহমেদ

লেখকরা কেন  লেখেন ? এই প্রশ্নের  জবাবে অনেকে  বলেন ,  ' না লিখে  থাকতে  পারি না, 

তাই লিখি '। কেউ কেউ বলেন , ' লিখি কারণ এ ছাড়া  অন্য কোন  কাজ ভালো  পারি না '। 

সম্প্রতি  প্রয়াত কথা শিল্পী  হাসান  আজিজুল হক বলেছিলেন , ' লিখে  ঋণ শোধ করি সমাজের কাছে  , মানুষের  কাছে । আমার  বেঁচে  থাকার উপকরণ যোগাচ্ছে সমাজ । কেবলই নিতে  থাকলে যে লজ্জা অপমানবোধ জমা হতে  থাকে তা থেকে মুক্তির জন্যই লিখি। '

আবার  অনেক  লেখক  বলেন , ' নিজের  মনের  আনন্দে লিখি । ' অবশ্যই  মনের আনন্দ  ছাড়া কোনো  সৃজনশীল  কাজই সম্পাদন করা  যায়না । আমি  পেশাদার  লেখক  না। কিন্তু  ক্লাস সেভেন থেকে লিখছি । প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়  তথা বুয়েটে ভর্তির আগেই বাংলা এবং ইংরেজিতে প্রায় ৪০ টা লেখা প্রকাশিত হয় বিভিন্ন  নামী পত্র পত্রিকায়।

আমি  বুয়েট থেকে  কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং  শেষে  কর্মজীবনে  আইবিএ থেকে  এমবিএ এবং বস্টনের বিজনেস স্কুল আর্থার ডি লিটল থেকে এমএস ডিগ্রি অর্জন করি ।  কয়েকটি বিখ্যাত  প্রতিষ্ঠান এবং  বিজনেস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী বা  নির্বাহী পরিচালক  হিসাবে  কাজ করি । একই সাথে শিক্ষকতা করি অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানত  এমবিএ  প্রোগ্রামে ।  পরে  কন্সাল্টেন্সিতে যুক্ত হই । এই সব কর্মকাণ্ডেও  প্রচুর  লেখালেখির মধ্যে  থাকতে হয়েছে । 

আমি বাংলা এবং ইংরেজি দুই  ভাষাতেই বুৎপত্তি অর্জনের  চেষ্টা করি । প্রথম লিখে টাকা পাই  সাপ্তাহিক বিচিত্রায় একটা  বড়ো প্রবন্ধ  লিখে ।  এরপর প্রায়  ৬০০ প্রবন্ধ লিখি প্রিন্ট মিডিয়ায় টাকার বিনিময়ে । ম্যানেজমেন্ট, এনার্জি, পরিবেশ এবং নানা বিষয়ে রেগুলার কলাম । বেশির ভাগ ইংরেজিতে । 

 ভালো লিখতে চাইলে  প্রচুর  পড়তে হয় ।  আমি সাহিত্য ও নানা বিষয়ে  হাজার হাজার  বই এবং  পত্রিকা পড়েছি । বিভিন্ন  লাইব্রেরীতে  এবং  কিনে ।  এখনো  জ্ঞান  চর্চার মধ্যেই আছি । 

তিন বছর আগে আমার  যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী  বড়ো ছেলের উৎসাহে  ফেসবুকে লেখা শুরু করি । প্রথম দিকে  ইংরেজিতে লিখেছি প্রায়  ১৬০ টি পোস্ট  । আত্মকথা এবং অন্যান্য লেখা । তখন আমার ছোট ছেলে জাপানে ছিল । পরে  সে দেশে ফিরলে তার কাছে  বাংলা  টাইপ শিখি । এখন  বাংলায় দুটো  সিরিজ চলছে । কথা ও  ভাবনা  এবং  অমৃত বাণী । এই পোস্টের মাধ্যমে  বাংলায় ১৪৬ তম লেখা হবে । উল্লেখ্য  আমার দুই ছেলেও বুয়েট গ্রাজুয়েট । বড়ো ছেলে পিএইচডি  এবং  ছোট ছেলে দেশে ফিরে চাকরির পাশাপাশি এমবিএ  শেষ করছে । দুজনেই  ভালো লিখতে পারে ।

লেখালেখি  এক কষ্টকর অভিযাত্রার নাম। কিন্তু  লিখতে গিয়ে  আমার  মনে হয় যে আমি  যেন লিখি না। কেউ আমাকে দিয়ে লেখায় ।তাই লেখার  এই আনন্দ ভুবনে  থাকা আমি  বেশ উপভোগ করি ।