এক মহাপ্লাবনের আলোয় ধুয়ে যেতে থাকে বিদিশার যত অন্ধকার নিশা.

পুলক মন্ডল


 জলতরঙ্গ

পুলক মন্ডল


একটুও না থেমে হাতে ধরা কাগজের টুকরোটায় লেখা দশটা সংখ্যা পরপর টাইপ করে মোবাইলের ‘কল’ বাটনে চাপ দিল সে- 

-ওপার থেকে ভেসে এল ...’দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে’...             

তারপরই নরম একটা পুরুষালী কণ্ঠ- ‘হ্যালো’.........  

  

-‘আমি বিদিশা বলছি’  

 

 কয়েকমুহূর্ত নীরবতার পর ফোনের ওপারে থাকা মার্জিত পুরুষকণ্ঠটি বলে উঠল, ‘হ্যাঁ, বলুন বিদিশা’  

-‘আপনার সাথে একটু কথা আছে।   বিকেলে কি দেখা করতে পারি আমরা?’  

 

          ...... ‘নিশ্চয়’


-‘আপনি বিরক্ত হছেন না তো?’

‘আমি তো বিরক্তই হতে চাই’- মৃদু হেসে বলে ওঠে প্লাবন।  

   

ফোনটা রাখতেই গজগজ করে  মা’য়ের আক্ষেপ, ‘এত ভালো পাত্র’টাকে হাতছাড়া করলি! নিজে যেচে এসেছিল’। 

             -------------------------------


 কফিশপের ভেতরে মায়াবী আলোয় শোনা যাচ্ছে জলতরঙ্গের শব্দ। ছোট টেবিলের দু’প্রান্তে মুখোমুখি তারা দুজন।  

 আনত চোখে থেমে থেমে, কেটে কেটে বিদিশা বলে, ‘ঠকাতে চাইনা। তাই সত্যিটা আপনার জানা দরকার। একবছর আগের এক রাত... নির্জন  রাস্তা... সংখ্যায় ওরা কতজন ছিল বলতে পারব না... আমার চেতনা ছিলনা... আমি রাস্তায় পড়ে ছিলাম... শুনেছি কেউ একজন ওখান থেকে আমাকে তুলে আনেন...... শুনেছি তারপর.....’  

কথা শেষ হয়না, তার আগেই ওর আলতো ফাঁক করা ঠোঁট’দুটোর ওপর আচমকা নেমে আসে একটা নরম অথচ দৃঢ় তর্জনী-    

তারপর প্লাবন নামক সেই মার্জিত পুরুষকণ্ঠটি বলে উঠলো, ‘সেই কেউ একজনটা কে, তা কি একবার জানবেন না?’ 


লজ্জাবনত দুটি অশ্রুসজল চোখ চকিতে বিস্ময়ে যেন সূর্যমুখী হয়ে নিবদ্ধ হয় অপর দুটি স্বপ্নালু-গভীর চোখে। দু’জোড়া চোখের ভিন্ন আলোকপাত ক্রমশ জলতরঙ্গের শব্দের মতো একে অপরের ওপর আবিষ্ট হতে থাকে...তারপর... তারপর যেন এক মহাপ্লাবনের আলোয় ধুয়ে যেতে থাকে বিদিশার যত অন্ধকার নিশা......  

--------------------------------------------------------

কলকাতা বইমেলায়(২০২২) প্রকাশিত পুলক মন্ডলের "যাও পাখি" গল্পগ্রন্থ থেকে।