ঈশ্বরের উপহার দেওয়া চোখ দুটো নিয়ে রাত্রির কালো তরঙ্গ ফালাফালা করে এগিয়ে যাব

সুকুমার হালদার

 

সবাইকে চাঁদ সহযোগে গুড মর্নিং 

সুকুমার হালদার 

হ্যাঁ আমি দুঃখ পাই না। কারণ তুমি আমাকে ভালোবাসনি। যে সেতুটা পাহাড়ের ঢালে নেমে আসছে,ওই পথ দিয়ে আমি আবার সেতুটা পার হয়ে  বেড়া দেওয়া বাগানটার কাছে যাব। কেবল একটা কথা জানিয়ে দিয়ে আসতে। সেতুটা এখনও টানটান আছে মারা যায় নি। সার্কাস খেলা দেখানো মেয়েটা পুতুল আর পুতুলের হাড়গোড় ভরা কাঁধে ঝোলানো ব্যাগটা নিয়ে এখনো বাড়ি ফেরে মান্থলি। ঈশ্বরের উপহার দেওয়া চোখ দুটো নিয়ে রাত্রির কালো তরঙ্গ ফালাফালা করে এগিয়ে যাব ঠিক দুরন্ত নৌকো যেমন  জলের শরীর কেটে এগিয়ে চলে। একটা গভীর দাগ টেনে দেব পাহাড়ের মাথা থেকে সেতুটার লেজের শেষ  প্রান্ত পর্যন্ত। আর সমস্ত কথাগুলো নীরবতার মোড়কে স্থিতিস্থাপক ঋজু দাগের ভিতর বিছিয়ে দেব। আর কয়েক শতাব্দীর পরিত্যক্ত তাঁবুর মধ্যে আবার ঢুকে যাব। ধ্যানক্লান্ত হয়ে পড়বে আমার শরীর। প্রাচীন চারণভূমি দিয়ে কিছু মানুষের ছায়া মূর্তি হিংস্রধর্মে এগিয়ে আসবে। সমস্ত কথাগুলোকে নির্মমভাবে নীরবতা ফাটিয়ে টেনে হিঁচড়ে বের করবে। আমি তখন জ্বরে পুড়ে যাওয়ার পর্যায়ে থরথর করে কাঁপছি জ্বলন্ত ধাতুর ছুঁচগুলোর মতো কথাগুলোকে আমার মাথার মধ্যে গেঁথে গেঁথে দিচ্ছে। রাত্রির বাতাস গুটিসুটি মেরে বাগানের বেড়া টপকে লাফিয়ে লাফিয়ে পালাচ্ছে। আমার ভুলবকাগুলো পাহাড়ের মাথা থেকে সমতলের তৃণভূমিতে ছড়িয়ে পড়েছে আমার বমি হওয়ার বিকট শব্দের রহস্য অনুমান করতে করতে ছায়া মূর্তিগুলো নামহীন পাথরের মূর্তি হয়ে গেল পাহাড়ের গায়ে গায়ে। অবাধ্য এক তারা খসে পড়ল। তার জ্বলন্ত আগুন নিয়ে পাথরের মূর্তিগুলোকে মুক্তি দিলাম। হিংস্রধর্ম ভুলে বন্ধুধর্মে ফিরল। আমি আবার মধ্যবিত্ত মানুষের মতো হয়ে গেলাম। বেড টি নিয়ে মা আমার মাথার কাছে। পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে আমার আঠারো বছর আগের হারিয়ে যাওয়া চাঁদ। আমার ঘরটা চাঁদের হাসিতে ভরে  মা-চাঁদ আর পাগলি-চাঁদ।


সবাইকে চাঁদ সহযোগে গুড মর্নিং।